পৃথিবী যখন এমন এক ভঙ্গুর অবস্থানে দাঁড়িয়ে আছে, তখন বাংলাদেশ কি ভাবছে?
ভারত তার স্ট্রাটেজি চেন্জ করেছে। ফরেইন পলিসির ক্ষেত্রে শত্রু চীনের সাথে তারা বর্ডার ক্ল্যাস স্যাটেল করে একটি ডিল করতে সক্ষম হয়েছে। এতে করে ভারত চীন― উভয় দেশই সন্তুষ্ট। দুই দেশের ডিপ্লোম্যাটিক এন্ড পলিটিক্যাল চ্যানেলে বিষয়টি গুরুত্বের সহিত বিবেচিত হচ্ছে। দু'দেশের বিশ্লেষকরাও ধারণা করছেন, এই এগ্রিমেন্ট বা বর্ডার স্যাটেলমেন্ট যদি লং টার্ম স্টে করে তবে সাউথ এশিয়ার প্রথম ও দ্বিতীয় পরাশক্তির শত্রুভাবাপন্ন মনোভাব থেকে বের হয়ে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ এই অঞ্চলের ভুরাজনীতি পরিবর্তনে অনেকটাই সহায়ক হবে। এমনকি এটি জিও-পলিটিক্যাল আর্থকুয়াক ঘটাতে সক্ষম হবে।
এদিকে ব্রিকসকে কেন্দ্র করে এই দুই দেশের কাছাকাছি আসা ও একসাথে কাজ করার সম্ভাবনা আরও প্রবল হচ্ছে।রাশিয়ার তাতারস্থানের রাজধানী কাজানে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ব্রিকস সামিট KAZAN-2024 এ যোগ দিতে আজ সকালে রাশিয়ায় পৌঁছেছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেখানে পৌঁছানোর পর তাকে কাজান কালচারে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। মোদিও এই অভ্যর্থনাকে পুঁজি করে তার টুইটার একাউন্টে একটি সাইকোলজিক্যাল গেম খেলে। সে রুশ ভাষায় উক্ত অভ্যর্থনাকে স্বাগত জানিয়ে একটি টুইট করে। এতে করে কালচারালি কানেক্ট হওয়ার মাধ্যমে একটুখানি পলিটিক্যাল এডভেন্টেজ পাওয়াও সম্ভব হয়।
তবে রাশিয়া, চীন, ভারত, ব্রাজিল এবং সাউথ আফ্রিকা― এই পাঁচ দেশের সমন্বয়ে তৈরি ব্রিকস যদি সফল হয় সেক্ষেত্রে জিও পলিটিক্যাল মারপ্যাঁচ আরো তীব্র হবে এবং বিশ্ব নিশ্চিতভাবে নতুন স্নায়ু যুদ্ধের সম্মুখীন হবে। যদিও সেই স্নায়ু যুদ্ধ ইতিমধ্যেই প্রাথমিক পর্যায়ে অবস্থান করছে।
লন্ডন স্কুল অব ইকনমিকস এর সিনিয়র ফেলো সুশিল আরন ব্রিটিশ থিঙ্কট্যাঙ্ক চ্যাটহ্যাম হাউজএর প্রাক্তন ডিরেক্টর রবিন নিবলেটের লেখা বই দ্যা নিউ কোল্ড ওয়ার এর বাস্তবতায় এশিয়া-প্যাসিফিকের দেশগুলির ব্যাপারে পশ্চিমাদের নীতি কেমন হওয়া উচিৎ, তা নিয়ে আলোচনা করেছেন। আরন বলেছেন― নতুন স্নায়ু যুদ্ধে একপক্ষে রয়েছে এমন কিছু দেশ যারা ব্যক্তিস্বাধীনতা, চেক এন্ড ব্যালান্স, বাকস্বাধীনতা এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে স্তম্ভ হিসেবে নিয়েছে। আর অপরপক্ষে রয়েছে এমন কিছু দেশ যারা গণতান্ত্রিক স্বাধীনতাকে ভয় পায় এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ও সার্বভৌমত্বকে মানবাধিকার ও আইনের শাসনের উপর স্থান দেয়। নিবলেটের সমর্থনে আরন বলছেন, রাশিয়া এবং চীন পশ্চিমা দেশগুলির সামরিক জোটের ব্যাপারে যতটা না ভীত, তার চাইতে বেশি ভীত তাদের আশেপাশের দেশগুলিতে গণতন্ত্রের ব্যাপারে।
এদিকে মালয়েশিয়ার প্রবীন অর্থনীতিবিড বলছেন― নতুন স্নায়ু যুদ্ধে অর্থনৈতিক উন্নয়নের চাইতে বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে ভূরাজনৈতিক স্বার্থ। অর্থনৈতিক নীতিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করাটা স্বাভাবিক হয়ে যাচ্ছে। ২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র, ন্যাটো এবং অন্যান্যরা কোনো দেশের উপর অবরোধ আরোপ করতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের কাছ আর যাচ্ছে না। কাজেই এই অবরোধগুলি জাতিসংঘের চার্টার এবং আন্তর্জাতিক আইনের সাথে সাংঘর্ষিক।
পৃথিবী যখন এমন এক ভঙ্গুর অবস্থানে দাঁড়িয়ে আছে, তখন বাংলাদেশ কি ভাবছে?
বাংলাদেশ এখন অব্দি এই বিষয়ে তার ন্যারেটিভ এস্টেবলিস করতে পারেনি। অবশ্য না পারাটাই স্বাভাবিক। কারন এত বড় গেমে ন্যারেটিভ এস্টেবলিসমেন্টের কাজ করে মূলত পলিটিক্যাল উইং। যেহেতু বাংলাদেশে ইন্টারেইম গভমেন্ট পাওয়ারে, সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ থেকে এক্সাক্ট ধারণা পাওয়া খুব কঠিন হবে।
তবে বাংলাদেশের অতীত অভিজ্ঞতা বলছে তারা আগের স্নায়ু যুদ্ধের সময় ব্রিটিশ পোস্ট কলোনিয়াল সেটআপের উপর গড়ে ওঠা তৃতীয় পক্ষ বা নন এলাইন্ড মুভমেন্ট বা জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনেই থাকবে।
Comments
Post a Comment